• যোগাযোগ
  • অভিযোগ
  • সংবাদ দিন
  • ই-পেপার
    • ঢাকা, বাংলাদেশ

    বীরগঞ্জে দানিয়ুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন 

     dailybangla 
    18th Jan 2026 9:22 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    মো. মনসুর রহমান, দিনাজপুর : দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর দানিয়ুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ক্লুলেস থাকা এই হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা পিপিএম-এর দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বীরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ডিবি পুলিশ প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় শনাক্ত করে। গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঐসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

    তবে অভিযুক্ত আবু বক্কর ওরফে বাদশার ভাড়া বাসা থেকে একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, সে একজন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির অপরাধী। পরবর্তীতে গত ১৬ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলা পুলিশের একটি সমন্বিত চৌকস টিম র‌্যাব-৬ খুলনার সহযোগিতায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬) কে গ্রেপ্তার করে।

    তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ী এলাকার নিজ বাসা থেকে মামলার অন্যতম আসামি মো. শাহ আলম কল্লোল (৫৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে শাহ আলম কল্লোলের দেওয়া তথ্যমতে বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামের নিজ বাসা থেকে সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১) কে গ্রেপ্তার করা হয়।

    তিনি নিহত দানিয়ুল ইসলামের স্ত্রী। তদন্তে জানা যায়, শাহ আলম কল্লোল ও সুলতানা রাজিয়া পরস্পর যোগসাজশে আবু বক্কর ওরফে বাদশার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করেন। গত ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বীরগঞ্জের জিন্দাপীর মেলার সময় বিপুল লোকসমাগমকে হত্যার জন্য উপযুক্ত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে অভিযুক্তরা।

    হত্যাকাণ্ডের আগে মোছা. সুলতানা রাজিয়া দানিয়ুলের বাসায় প্রবেশ ও হত্যার কৌশল সংক্রান্ত একটি শর্ট ভিডিও শাহ আলম কল্লোলের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠান। পরবর্তীতে আবু বক্কর ও তার সহযোগী পেশাদার খুনিরা দিনাজপুর সদরের বালুবাড়িতে শাহ আলম কল্লোলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দানিয়ুলের বাসার চাবি সংগ্রহ করে।

    গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভোররাতে আবু বক্কর ও তার সহযোগীরা দানিয়ুল ইসলামের গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে। পরে শাহ আলম কল্লোল বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দানিয়ুলের বাড়ির ১০০ গজ সামনে অবস্থিত একটি পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় ফেলে দেওয়া ঘরের তালাচাবি উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, নিহত দানিয়ুল ইসলাম একজন অবস্থাশীল কৃষক ছিলেন।

    গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে নিজ শয়নকক্ষে তার গলাকাটা মরদেহ বিছানার ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম ও ঠিকানা : ১। মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬), পিতা-মো. মোতালেব শেখ, সাং-উৎকুল, থানা-বাগেরহাট সদর, জেলা-বাগেরহাট। ২। মো. শাহ আলম কল্লোল (৫৬), সাং-মহারাজা মোড়, উত্তর বালুবাড়ী, দিনাজপুর। ৩। সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১), সাং-আরাজি চৌপুকুরিয়া, থানা-বীরগঞ্জ, জেলা-দিনাজপুর। পুলিশ জানায়, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

    বিআলো/আমিনা

    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    M T W T F S S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031