ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জামায়াত আমীরের
মাসুম হাওলাদার, বাগেরহাট : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোট তুমি দেবে এই অধিকার কেড়ে নিতে এলে প্রতিরোধ হবে। ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আকাশ থেকে কালো চিলের মতো কেউ যদি ভোট ছোঁ মেরে নিতে আসে, তবে জনগণকেই তার ডানাসহ তুলে ফেলতে হবে।
গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমীর বলেন, শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে রাজনীতির এই সংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই।
যার যোগ্যতা আছে, সেই দেশ পরিচালনা করবে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায় এবং সেই লক্ষ্যেই তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দুর্নীতির পাতা ধরে টানাটানি করবো না, দুর্নীতির শিকড় ধরে তুলে ফেলবো। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কখনো কি শোনা গেছে জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মী চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত? যারা এসব করছে, জামায়াত তাদের বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমীর অভিযোগ করে বলেন, দলের ১১ জন শীর্ষ নেতা ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে, হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে এবং শতাধিক কর্মীকে তথাকথিত আয়নাঘরে বন্দি রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে, নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নিয়ে সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই মজলুম দলকে শক্তিশালী করতেই দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে জামায়াতের পক্ষে অসংখ্য নারী মাঠে ও রাজপথে কাজ করছেন। কারণ তারা বিশ্বাস করেন, জামায়াতে ইসলামীর হাতেই তাদের ইজ্জত ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। বাগেরহাটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলায় যেমন অনেক সমস্যা রয়েছে, তেমনি সম্ভাবনাও কম নয়।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০১৫ সালে শরণখোলায় এসে জমির আইল দিয়ে চলতে হয়েছিল। ভালো রাস্তা ছিল না। কেন—বাগেরহাট কি দেশের বাইরে? ক্ষমতায় গেলে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর ন্যায্য উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে জামায়াত আমীর বলেন, বাংলাদেশ সব দেশকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চায়, তবে কোনো আধিপত্য আর মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, আমরা কারো ঘাড়ে চাপতে চাই না, আবার কাউকে ঘাড়ে চাপতেও দেব না। গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হ্যাঁ মানেই ফ্যাসিবাদ আর ফিরে না আসুক। হা মানে আজাদী। ১২ তারিখে প্রথম ভোট গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে এবং দ্বিতীয় ভোট ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বাগেরহাট-১ আসনে মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনে শেখ মনঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনে মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ এবং বাগেরহাট-৪ আসনে অধ্যক্ষ আব্দুল আলীমকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ। সবশেষে প্রার্থীদের জন্য দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চেয়ে জনসভা শেষ করা হয়।
বিআলো/আমিনা



