ভোটকক্ষে জালিয়াতি: কয়রায় ৬ ভুয়া পোলিং এজেন্টের সাজা
মুশফিকুর রহমান খুলনা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে লাঙল প্রতীকের প্রার্থীর ভুয়া পোলিং এজেন্ট সেজে ভোটকেন্দ্রে অবস্থানের অভিযোগে জামায়াতের এক নেতাসহ ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কয়রা উপজেলার মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ২ জন এবং কাটমারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালত তাদের দণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কাটমারচর গ্রামের ইস্তিহার উদ্দীনকে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী প্রশিক্ষক হিসেবে পরিচিত। এছাড়া মদিনাবাদ গ্রামের তাসলিমা খাতুন ও আব্দুল গফফারকে ১৫ দিন করে এবং কাটমারচর গ্রামের আমিরুল ইসলাম ঢালী, রোকনুজ্জামান ও উত্তর বেদকাশী গ্রামের ইলিয়াস হোসেনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কাটমারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা শংকর কুমার জানান, লাঙল প্রতীকের প্রার্থীর স্বাক্ষর জাল করে অভিযুক্তরা পোলিং এজেন্ট পরিচয়ে ভোটকক্ষে প্রবেশ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটক করে।
অন্যদিকে, মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, কেন্দ্রের ছয়টি কক্ষে লাঙল প্রতীকের ছয়জন এজেন্ট দায়িত্বে ছিলেন। তবে দুপুরের পর চারজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিকালে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়।
লাঙল প্রতীকের প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, তার স্বাক্ষর জাল করে কয়রা উপজেলার ৬৭টি কেন্দ্রে ভুয়া পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত এজেন্টরা কেন্দ্রে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে অভিযোগ করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়। কয়েকজনকে আটক করা হলেও অনেকে পালিয়ে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
খুলনা-৬ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী জানান, একটি পক্ষ প্রার্থীর স্বাক্ষর জাল করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আটক ব্যক্তিদের ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— মনিরুল হাসান বাপ্পি (বিএনপি), আবুল কালাম আজাদ (জামায়াত), মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর (জাতীয় পার্টি), প্রশান্ত কুমার মন্ডল (সিপিবি) এবং আছাদুল্লাহ ফকির (ইশা আন্দোলন)।
বিআলো/এফএইচএস



