ভোটকে উৎসবে রূপ দিতে কাপ্তাই প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা
আব্দুল হাই খোকন: রাঙ্গামাটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম। “নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রশাসনের উদ্বেগ ততই স্পষ্ট- ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসবেন তো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় প্রশাসন শুরু করেছে ভিন্নধর্মী প্রস্ততি। আনুষ্ঠানিক প্রচারের বাইরে গিয়ে ভোটাধিকার ও গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গনভোট ২০২৬ কে সুষ্ঠ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করতে ভোটরদের সচেতনতা এবং উপস্থিতি নিশ্চিত করাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
এ লক্ষ্যে বুধবার (১৪ জানুয়ারী) কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, গণমাধ্যম কর্মী ও বিভিন্ন অংশীজনদের সমন্বয়ে এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমন্বয় বৈঠকে বক্তারা স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়,বরং জনগণের অংশগ্রহণমূলক উৎসবে রুপ দিতে চায় সরকার। এ সময় বক্তারা আরো বলেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। তাই নির্বাচন ও গণভোটে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সমাজের সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও তরুণ ভোটারদের ভোটদানে আগ্রহী করে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সবাইকে গণভোট সংক্রান্ত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি হ্যাঁ-ও না ভোট প্রদানের নিয়ম, ভোটকেন্দ্রে করনীয় এবং সংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে প্রস্তাবিত দিকনির্দেশনা অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন বলেন, “নির্বাচন ও গণভোটে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালাবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ”
তিনি আরো বলেন,”ভোটার যদি ভোটের ভাষা না বুঝে তাহলে নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই আমরা ভোটের আগেই ভোটারকে প্রস্তুত করতে চাই”
তিনি জানান, নির্বাচনের আগে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রচারসভা, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গণসংযোগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
সভায় আরো জানানো হয়- নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে এমন গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাবে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
উপজেলা সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম শাকের আহমেদ, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুব হাসান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিতা পারিয়াল, গনমাধ্যম কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরা মতামত তুলে ধরেন।
সভা শেষে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার কার্যক্রম জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিআলো/ইমরান



