ভোটের ডাকে উন্নয়ন: নীলফামারী উন্নয়ন মঞ্চের নতুন নাগরিক ভাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন মানেই সাধারণত দল, প্রতীক, জোট আর প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতা। তবে নীলফামারীতে এবারের নির্বাচনী আলোচনায় যুক্ত হয়েছে ভিন্ন এক ভাবনা—উন্নয়নকে সামনে রেখে নাগরিকদের ঐক্য। সেই ভাবনা থেকেই আত্মপ্রকাশ করেছে ‘নীলফামারী উন্নয়ন মঞ্চ’, যা স্থানীয়ভাবে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, নীলফামারী উন্নয়ন মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটি মূলত জেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নাগরিকদের একটি প্ল্যাটফর্ম। প্রকৌশলী, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা ও চাকরিজীবীসহ নানা পেশার মানুষ এখানে একত্র হচ্ছেন একটি প্রশ্নকে সামনে রেখে—আগামী পাঁচ বছরে নীলফামারী কোথায় দাঁড়াবে।
দীর্ঘদিন ধরেই নীলফামারী অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া একটি জেলা হিসেবে পরিচিত। শিল্পকারখানার অভাব, সীমিত কর্মসংস্থান, বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য রংপুরের ওপর নির্ভরতা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য দিনাজপুর কিংবা ঢাকামুখী হতে হওয়া এখানকার মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা।
স্থানীয়দের ভাষায়, সরকার পরিবর্তন হয়, প্রতিশ্রুতিও বদলায়, কিন্তু বাস্তব অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন ঘটে না। এই বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই নীলফামারী উন্নয়ন মঞ্চের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।
নীলফামারী উন্নয়ন মঞ্চের আহ্বায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেনিন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন প্রকৌশলী ও শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বাধীন নীলসাগর গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে নীলফামারীতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং প্রান্তিক মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।
নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেনিন মনে করেন, একটি জনপদের সার্বিক উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি। তিনি বলেন, ভোটের আগে নাগরিকদের উন্নয়ন এজেন্ডা নির্ধারণ করা গেলে নির্বাচিত প্রতিনিধি সেই পরিকল্পনার প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, একজন প্রকৌশলী ও শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে সার্বিক দিক বিবেচনায় তিনি মনে করেন, নীলফামারী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জনাব শানরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন একজন সৎ, যোগ্য ও মেধাবী জনপ্রতিনিধি হতে পারেন, যিনি নীলফামারীর উন্নয়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
নীলফামারী উন্নয়ন মঞ্চ ইতোমধ্যে জেলার জন্য কয়েকটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলা, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নগর পরিকল্পনার উন্নয়ন।
উদ্যোক্তাদের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে সাধারণত দলীয় পরিচয়ই মুখ্য হয়ে ওঠে। নীলফামারীর এই উদ্যোগ সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তাঁদের ধারণা, ভোটের আগে যদি নাগরিকরা উন্নয়নের দাবি নির্ধারণ করতে পারেন, তাহলে নির্বাচিত প্রতিনিধি দলীয় সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে অন্তত কিছু বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবেন। অর্থাৎ, নির্বাচনে জয়ী হওয়া মানেই শুধু সংসদে যাওয়া নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনার দায়িত্ব গ্রহণ করা।
নীলফামারীতে এই উদ্যোগ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটুকু স্পষ্ট, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নভিত্তিক নাগরিক ঐক্যের আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনা যদি জনমত গড়ে তুলতে পারে, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, উন্নয়নের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে।
সেই কারণেই নীলফামারী উন্নয়ন মঞ্চ এখন আর কেবল একটি সংগঠন নয়—বরং একটি প্রশ্ন: ভোট কি প্রতীকের জন্য, নাকি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য?
বিআলো/তুরাগ



