মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর প্রকৃতি কচুয়ায় সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহ
মানিক সরকার, কচুয়া (চাঁদপুর) : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় এ মৌসুমে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহে রঙিন হয়ে উঠেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। উপজেলার উত্তর পালাখাল এলাকা দিয়ে সড়কপথে চলাচল করলেই চোখে পড়ে বিলের পর বিল জুড়ে হলুদ ফুলে ভরা সরিষা ক্ষেত। শীতের সোনালি রোদে ঝিলমিল করা এই মাঠ শুধু প্রকৃতিপ্রেমী পথচারীদেরই নয় কৃষকদের মনেও এনে দিয়েছে আশার আলো। সরিষা ফুলে ভরা মাঠজুড়ে মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। মৃদু হিমেল বাতাসে দুলছে হলুদ ফুলে ভরা সরিষা গাছ। ফুলের ফাঁকে ফাঁকে ফল আসার আভাসে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠছে কৃষকদের মুখে। প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন পথচারী ও ভ্রমণপ্রেমীরা।
কচুয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৭৩ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিগত কয়েক বছরে সরিষার ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় কৃষকরা এবার অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরিষা চাষে বেশি ঝুঁকেছেন। উপজেলার সফিবাদ গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল গনি, আলমাছ শিকারী ও প্রবাসী জাকারিয়া জানান, সরিষা চাষে তেমন বাড়তি খরচ নেই। শুধু সার দিলেই হয়, আলাদা করে সেচ দিতে হয় না। আমরা প্রায় ৭৫ শতাংশ জমিতে সরিষা আবাদ করেছি এবং ভালো লাভের আশা করছি। সরিষার বিস্তীর্ণ ক্ষেত মধু সংগ্রাহকদের জন্যও সুখবর নিয়ে এসেছে।
মধু আহরণে যুক্ত হাবিব বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার সরিষার ক্ষেত অনেক বেশি। তাই এ বছর মধু উৎপাদনও বেশি হবে বলে আশা করছি। সরিষা ফুলের সৌন্দর্য দেখতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা নুরুন্নবী পাঠান বলেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মাঠভরা সরিষা ফুল দেখে আর থামতে পারিনি। ভিডিও করতে এলাম। বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে দেখতে বেশ ভালো লাগছে। কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তপু আহমেদ বলেন, সরিষা একটি স্বল্প খরচের লাভজনক ফসল। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলন ভালো হলে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণেও সরিষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিআলো/আমিনা



