ম্যানচেস্টার হাইকমিশনের মানবিক সেবা: প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত
“সহকারী হাইকমিশনার জুবায়েদ আহমেদ নেতৃত্বে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত হচ্ছে কনস্যুলার সেবা”
কাওসার আহম্মেদ, (ম্যানচেস্টার) ইংল্যান্ড: প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাস ও হাইকমিশনের সেবাই হচ্ছে মাতৃভূমির সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। এই সেবার মান, গতি ও আন্তরিকতা প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন, ম্যানচেস্টারে নতুন নেতৃত্ব আসার পর থেকে সেবার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সহকারী রাষ্ট্রদূত ও সহকারী হাইকমিশনার জুবায়েদ আহমেদ এর নেতৃত্বে মিশনের সেবার গুণগত মান ও সেবা প্রদানের গতি আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাসপোর্ট, এনআইডি, ভিসা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সহজ, দ্রুত ও ঝামেলামুক্তভাবে প্রদান করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন—যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
এই ইতিবাচক পরিবর্তনের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় সেবা গ্রহণকারীদের মতামতে।
সম্প্রতি সাংবাদিক কাউসার আহম্মেদ দূতাবাসের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহকালে সেবা গ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানতে চান—তারা দূতাবাসের সেবায় কতটুকু সন্তুষ্ট।
এ সময় যুক্তরাজ্যের চতুর্থ বৃহত্তম শহর শেফিল্ড থেকে আগত জনাব শাহনুর লেবু তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাসপোর্ট নবায়নের জন্য দূতাবাসে উপস্থিত হন। সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি জানান, প্রায় দশ বছর পর তিনি দূতাবাসে এসেছেন। সেবার মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আগের তুলনায় সেবা অনেক বেশি গতিশীল ও দ্রুত। কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই আমার ও আমার স্ত্রীর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সত্যিই খুব খুশি।”
একই সময়ে সাংবাদিক কাউসার আহম্মেদ আরও কথা বলেন একজন তরুণ সেবা গ্রহণকারীর সঙ্গে, যিনি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাজ্যে পিএইচডি গবেষণার জন্য আগত একজন শিক্ষার্থী। তিনিও দূতাবাসের সেবা সম্পর্কে একই ধরনের সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তিনি অত্যন্ত সুন্দর, দ্রুত ও ঝামেলাবিহীন সেবা পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, ওই শিক্ষার্থী ব্যক্তিগতভাবে সহকারী হাইকমিশনার জনাব জুবাইর আহম্মেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, যা দূতাবাসের আন্তরিক ও মানবিক সেবারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
এছাড়াও দূতাবাসের আরেকটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলো—বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শহরে গিয়ে সরাসরি কনস্যুলার সেবা প্রদান। এই ভ্রাম্যমাণ সেবার মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। কর্মব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ ভ্রমণ ও অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই নিজ নিজ শহরে সেবা পাওয়া প্রবাসীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক বড় স্বস্তির বিষয়।
সব মিলিয়ে, সহকারী হাইকমিশনার জুবায়েদ আহমেদের দক্ষ নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব ও সেবাপ্রদানের আন্তরিকতা প্রবাসে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন, ম্যানচেস্টার সত্যিকার অর্থেই প্রবাসীবান্ধব একটি দপ্তানে পরিণত হয়েছে।
আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে সহকারী হাইকমিশনার জুবায়েদ আহমেদ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন, ম্যানচেস্টারের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই গতিশীল, স্বচ্ছ ও মানবিক সেবাধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
— প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে দৈনিক বাংলাদেশের আলো।
বিআলো/তুরাগ



