যশোরে ৩৭ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ২৪ জন
আসাদুল ইসলাম শাওন, যশোর : যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩৭ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জন তাদের জামানত হারিয়েছেন। প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তারা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা করে জামানত ফেরত পাবেন না।
বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক মাহমুদ। ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। যশোর-১, মোট প্রদত্ত ভোট: ২,১৯,৬২৬, জামানত রক্ষায় প্রয়োজন: ২৭,৪৫৩ ভোট, ভোটের হার: ৭০.৪৮%।
৪ প্রার্থীর মধ্যে ২ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মো. জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল(১,৩৯৮) ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মো. বক্তিয়ার রহমান (১,৭৬৮)। এ আসনে বিজয়ী হন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুহাম্মদ আজীজুর রহমান (১,১৯,০৯৩)। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. নুরুজ্জামান লিটন (৯৩,৫৪২)। যশোর-২, মোট প্রদত্ত ভোট: ৩,৪১,৯৮৫, জামানত রক্ষায় প্রয়োজন: ৪২,৭৪৮ ভোট, ভোটের হার: ৭০.৫৩%।
৮ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন মো. ইদ্রিস আলী (৫,৭৮১), মো. ইমরান খান (৪৭২), মো. জহুরুল ইসলাম (১৮৮), মেহেদী হাসান (৩৮৯), মো. শামছুল হক (২৩৩) ও রিপন মাহমুদ (৪১৬)। বিজয়ী হন জামায়াত মনোনীত মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (১,৮০,৯৬৫)। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোছা. সাবিরা সুলতানা (১,৪৬,৪৪৭)। যশোর-৩, মোট প্রদত্ত ভোট: ৪,১৫,৬৯৮, জামানত রক্ষায় প্রয়োজন: ৫১,৯৬২ ভোট, ভোটের হার: ৬৭.৭৬%।
৬ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (১৩,৩২২), মো. খবির গাজী (৩,৪০৪), মো. নিজামদ্দিন অমিত (১,৭৭২) ও মো. রাশেদ খান (৭৫৩)। বিজয়ী হন বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (২,০১,৩৩৯)। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আব্দুল কাদের (১,৮৭,৪৬৩)। যশোর-৪, মোট প্রদত্ত ভোট: ৩,৩১,৩৮০, জামানত রক্ষায় প্রয়োজন: ৪১,৪২২ ভোট, ভোটের হার: ৭২.২৭%। ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন জামানত হারিয়েছেন।
তারা হলেন এম. নাজিম উদ্দীন আল-আজাদ (৭৯৭), বায়েজীদ হোসাইন (১১,৮৩৮), মাও. আশেক এলাহী (৩০১), মো. আবুল কালাম গাজী (২৫৭), মো. জহুরুল হক (১,৭৫১) ও সুকৃতি কুমার মন্ডল (১,৫১০)। বিজয়ী হন জামায়াতের মো. গোলাম রছুল (১,৭৬,৯১২)। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী (১,৩১,৯১৭)। যশোর-৫, মোট প্রদত্ত ভোট: ২,৮৬,৩২০, জামানত রক্ষায় প্রয়োজন: ৩৫,৭৯০ ভোট, ভোটের হার: ৭৬.৫০%, ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন।
তারা হলেন— এম এ হালিম (২,২৪৫), মো. কামরুজ্জামান (২,১০৩) ও মো. জয়নাল আবেদিন (৪,৪০০)। বিজয়ী হন জামায়াতের গাজী এনামুল হক (১,৩২,৮৭৫)। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন (৮৫,০৪৫) এবং বিএনপির রশীদ আহমাদ (৫৪,৮৭৫)। যশোর-৬, মোট প্রদত্ত ভোট: ৭৮,৫০৮, জামানত রক্ষায় প্রয়োজন: ২২,৩১৩ ভোট, ভোটের হার: ৭৭.৯০%, ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন।
তারা হলেন— জি. এম. হাসান (৯৯০), মো. মাহমুদ হাসান (৬৭২) ও মো. শহিদুল ইসলাম (১,২৮৫)। বিজয়ী হন জামায়াতের মো. মোক্তার আলী (৯২,২৩৪)। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আবুল হোসেন আজাদ (৫৪,৮৭৫)। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবারের নির্বাচনে যশোরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী এই শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিআলো/আমিনা



