রজব থেকে রমজান: ইবাদতের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ
বিআলো ডেস্ক: ইসলামি চাঁদ ক্যালেন্ডারের সপ্তম মাস রজব। মুসলিম সমাজে এই মাসটি বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। রজব শুধু একটি মাসের নাম নয়, এটি সংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। ইসলামের বিধান অনুযায়ী রজব চারটি হুরম মাসের একটি, যেসব মাসে যুদ্ধ, হিংসা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে।
রজব নামের অর্থ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
‘রজব’ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ সম্মান প্রদর্শন, মর্যাদা দেওয়া বা সংযত থাকা। ইসলাম-পূর্ব যুগেও আরবরা এই মাসকে বিশেষভাবে সম্মান করত। রজব মাস এলে তারা যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ রাখত এবং রক্তপাত থেকে বিরত থাকত। ইসলাম এই প্রচলনকে বাতিল করেনি; বরং রজব মাসকে পবিত্র ঘোষণা করে এর মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
প্রখ্যাত আরবি অভিধানবিদ ইবনু মনজুর তাঁর লিসানুল আরব গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, রজব হলো এমন এক মাস যা সম্মানিত ও পবিত্র, যেখানে যুদ্ধ ও অন্যায় কাজ নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত।
ইসলামে রজব মাসের মর্যাদা
ইসলামে মোট চারটি হুরম মাস রয়েছে। সেগুলো হলো জুল কাদা, জুল হিজ্জা, মুহররম ও রজব। হজরত ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে এ চারটি মাসের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মাসগুলোতে নেক আমলের সওয়াব বেশি এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রজব মাসকে অনেক আলেম ‘আল্লাহর মাস’ বলেও অভিহিত করেছেন। কারণ এই মাসে ইবাদত ও ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি।
রজব মাসে ইবাদত ও নেক আমল
রজব মাসে নফল ইবাদতের গুরুত্ব রয়েছে। নফল রোজা রাখা, অতিরিক্ত নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও সদকা এই মাসের বিশেষ আমল হিসেবে বিবেচিত। যদিও রজব মাসের নির্দিষ্ট কোনো ফরজ ইবাদত নেই, তবুও এই মাস আত্মশুদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, “তোমরা নিজেদের জন্য যে ভালো কাজ আগাম পাঠাও, তা আল্লাহর কাছেই পাবে।” (সুরা মুজাম্মিল: ২০)
এই আয়াত মুমিনদের প্রতিটি সময়কে নেক আমলে ভরিয়ে তোলার প্রতি উৎসাহ দেয়, যা রজব মাসে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
রজব, শাবান ও রমজানের ধারাবাহিকতা
রজব মাসের পরই আসে শাবান, তারপর রমজান। এই তিনটি মাসকে একসঙ্গে আত্মিক প্রস্তুতির ধারাবাহিক ধাপ হিসেবে দেখা হয়। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাস সম্পর্কে বলেছেন, এটি রজব ও রমজানের মাঝখানে অবস্থিত এমন এক মাস, যাকে মানুষ প্রায়ই অবহেলা করে, অথচ এ সময় মানুষের আমল আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করা হয়।
এই হাদিস রজব মাসের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। কারণ রজব থেকেই মূলত রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়।
উপসংহার
রজব মাস তার নামেই বহন করে সম্মান ও গুরুত্বের বার্তা। এটি পবিত্রতা, সংযম ও আত্মিক উন্নতির এক বিশেষ সময়। মুসলিমরা এই মাসকে ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে শাবান ও রমজানের জন্য নিজেদের মানসিক ও আত্মিকভাবে প্রস্তুত করতে পারেন। রজব তাই শুধু একটি মাস নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।
বিআলো/শিলি



