লাইটারেজ জাহাজ সংকটে অচল বহির্নোঙর
ভূপেন দাশ, চট্টগ্রাম : লাইটারেজ জাহাজ সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ায় বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ মাদার ভ্যাসেলের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়েছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্য, খাদ্যশস্য ও ভোজ্যতেলবোঝাই বহু মাদার ভ্যাসেল বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। কিন্তু পর্যাপ্ত লাইটারেজ জাহাজ না থাকায় পণ্য খালাস হচ্ছে না, ফলে রমজানে বাজারে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিটি মাদার ভ্যাসেলকে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলার করে ফিক্সড অপারেটিং কস্ট দিতে হচ্ছে। দীর্ঘ অবস্থানকালের কারণে আমদানিকারকদের কোটি কোটি ডলার ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পড়বে ভোক্তার ওপর। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, লাইটারেজ জাহাজ খাতকে ঘিরে সিন্ডিকেট, মালিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায় সংকট তীব্র হয়েছে।
বিরোধের জেরে প্রায় ৪৫০টির বেশি লাইটারেজ জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে মোংলা, পায়রা ও ভারতে সরে গেছে। লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দের দায়িত্বে থাকা বিডব্লিউটিসিসির নিয়মিত বার্থিং সভা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে না হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। ফলে অনেক মাদার ভ্যাসেলের বিপরীতে প্রয়োজনীয় জাহাজ বরাদ্দ মিলছে না। দেশের ৪১টি ঘাটে অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে খালাস হওয়া পণ্য দ্রুত নামানো যাচ্ছে না। এতে লাইটারেজ জাহাজ দীর্ঘদিন আটকে থাকছে এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ধীরগতির হয়ে পড়েছে। আমদানিকারক ও শিল্পপতিরা অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন খাত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, মুক্তবাজার ব্যবস্থায় জাহাজ সংগ্রহের সুযোগ থাকলে এই অচলাবস্থা তৈরি হতো না। সব মিলিয়ে লাইটারেজ জাহাজ সংকট চট্টগ্রাম বন্দরের আন্তর্জাতিক সুনাম ও রমজানপূর্ব বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। দ্রুত সমন্বিত সিদ্ধান্ত ও সরকারি হস্তক্ষেপ না এলে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআলো/আমিনা



