লোহাগাড়া আধুনগরের মেধাবী চিকিৎসক ডা. মিশুক ভট্টাচার্য গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত
নুরুল আমিন,লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের আধুনগর বাজারের পশ্চিমে পালপাড়া এলাকার মেধাবী সন্তান ডা. মিশুক ভট্টাচার্য (৩৯) গাজীপুরের কালিগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
জানা যায়, ডা. মিশুক ভট্টাচার্য নরসিংদীর পলাশ উপজেলার প্রাইম হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৮ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় চেম্বার শেষ করে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাসভবন ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের বাঘের পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. মিশুক ভট্টাচার্য ছিলেন আধুনগর পালপাড়ার বাসিন্দা, প্রয়াত প্রবীণ পল্লী চিকিৎসক লালু ডাক্তারের বড় নাতি এবং এলাকার সুপরিচিত প্রয়াত পল্লী চিকিৎসক পিন্টু ভট্টাচার্যের সন্তান। তার বাবা ২০১৮ সালে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করলে পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে পড়ে। তবে চাচা-চাচিরা বাবাহারা মিশুককে সবসময় আগলে রেখেছিলেন বলে জানান স্থানীয় সচেতন মহল।
তার অকাল মৃত্যুতে গ্রাম ও গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও এলাকাবাসী এখনো এই মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না। সহকর্মী ও রোগীদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় ও মানবিক একজন চিকিৎসক।
ডা. মিশুক ২০১৩ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন এবং ২০১৪ সালে ইন্টার্নশিপ শেষ করেন। এরপর থেকেই তিনি চিকিৎসাসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র এবং ছোট-বড় সবার সঙ্গে সহজেই মিশতে পারতেন।
তিনি এক পুত্র সন্তানের জনক। তার স্ত্রীও একজন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।
গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তার মৃত্যু হয় এবং ২০ জানুয়ারি বিকেলে আধুনগর পালপাড়ার পারিবারিক সামাজিক শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
বিআলো/ইমরান



