‘সর্বস্তরে ন্যায়বিচার কায়েম করা হবে’
সজীব আলম, লালমনিরহাট : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না, সর্বস্তরে ন্যায়বিচার কায়েম করা হবে। সেই বিচারে দেখা হবে না কে সাধারণ মানুষ আর কে দেশের প্রেসিডেন্ট।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় স্থানীয় উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমীর বলেন, লালমনিরহাট একটি অপার সম্ভাবনার জেলা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত। আমরা ক্ষমতায় গেলে তিস্তা নদী নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব যাতে নদী ভাঙন বন্ধ হয় এবং চরাঞ্চলের কৃষকরা সারা বছর চাষাবাদ করতে পারেন।
মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু করার মাধ্যমে এই এলাকার অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনা হবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি হাতীবান্ধা ও লালমনিরহাটের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবার কথা উল্লেখ করে বলেন, এখানকার ৩ লাখ মানুষের ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আজ চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতির অভাবে ধুঁকছে।
আমরা প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিশ্চিত করব, যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা রংপুরে ছুটতে না হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা অতীতে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। তারা এখন ভয়ে আছে। কিন্তু ভয় পাওয়ার কারণ নেই কারণ ন্যায়বিচার সবার জন্য সমান। তিনি বলেন, এতদিন তোমাদের জীবন অপমানের ছিল কারণ তোমরা জনগণের সম্পদ চুরি করেছ।
এখন আমরা তোমাদের মর্যাদার আসনে বসাতে চাই। তোমরা হবে দেশ গড়ার কারিগর। হালাল রুজি নিয়ে আমরাও যেমন বাঁচব তোমরাও তেমনি বাঁচবে। দেশের নারী সমাজকে শ্রদ্ধার আসনে বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, দেশের ৯ কোটি নারী আমাদের মা।
মায়েরা ঘরে, রাস্তায় ও কর্মস্থলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করবেন। যারা ইচ্ছা করে মায়েদের গায়ে হাত দেয় তাদের হুশিয়ার করে দিচ্ছি প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও মায়েদের ইজ্জত রক্ষা করা হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে যে বেতন দেওয়া হয় তা পর্যাপ্ত নয়। রাষ্ট্রই যেন কর্মকর্তাদের দুর্নীতি করতে বাধ্য করছে।
যে রাষ্ট্র তার কর্মচারীদের সম্মান দিতে পারে না, সেই রাষ্ট্র তাদের বিচার করার অধিকার রাখে না। আমরা আগে সম্মান ও পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করব। এরপর কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে। আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ আমাদের প্রথম কাজ হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া, এরপর দাঁড়িপাল্লায় ভোট।
যারা আগে ‘না’ ভোটের পক্ষে ছিল, জনস্রোত দেখে এখন তারাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে। তাদের এই সিদ্ধান্তকে আমরা অভিনন্দন জানাই। বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান লালমনিরহাটের ৩টি ও নীলফামারীর ৪টি সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।
লালমনিরহাট জেলা আমীর অ্যাড. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য প্রভাষক আতাউর রহমান এবং লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বিআলো/আমিনা



