সিএমপির মধ্যরাতে তালিকা সংশোধনে বাদ পড়ল শওকত আজম খাজা
চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) নগরীতে ৩৩০ জন দুষ্কৃতকারীর প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তবেওই গণবিজ্ঞপ্তি জারির কয়েক ঘণ্টার পর মধ্যরাতেই নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজার নাম বাদ দিয়ে তা সংশোধন তালিকা প্রকাশ করেছে। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে পাঠানো সংশোধিত তালিকা থেকে শওকত আজম খাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তার আগে শনিবার বিকেলে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে ৩৩০ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৪ নম্বর ক্রমিকে ছিল বিএনপি নেতা শওকত আজম খাজার নাম। গণমাধ্যমে এই তালিকা পাঠানোর পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে দিবাগত রাত ১২টা ২৪ মিনিটে পুলিশ পুনরায় সংশোধিত তালিকা পাঠায়, যেখানে শওকত আজমের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
সিএমপির জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, ভুলবশত ওই বিএনপি নেতার নাম তালিকায় চলে এসেছিল। তাছাড়া তালিকায় একজন প্রয়াত সাবেক কাউন্সিলরের নামও রয়েছে, যা বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশোধিত তালিকায় শওকত আজম খাজার নাম বাদ দেওয়া হলেও নগর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছেন বাকলিয়া থানা বিএনপির নেতা মোর্শেদ খান, কোতোয়ালির যুবদল নেতা হাসান এবং পাহাড়তলীর মাসুম। ক্ষোভ প্রকাশ করে নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, পুলিশ কিসের ভিত্তিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম দুষ্কৃতকারীদের তালিকায় তুলেছে, তা বোধগম্য নয়। কেউ প্রকৃত অপরাধী বা সন্ত্রাসী হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দলের আপত্তি নেই। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে হামলা চালিয়েছিল এবং নগরের চিহ্নিত অনেক সন্ত্রাসীর নাম এই তালিকায় নেই। অথচ বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় বিএনপি নেতার নাম আসা এবং পরে তা সংশোধনের বিষয়ে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, ভুলবশত শওকত আজম খাজার নাম তালিকায় উঠেছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর তা সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া তালিকায় থাকা এক মৃত কাউন্সিলরের নামও বাদ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আধিক্য প্রসঙ্গে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ও গোপনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিআলো/আমিনা



