সিরাজদিখানে আলুর বাম্পার ফলন
মোহাম্মদ ফয়সাল, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) : মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সোনালি আলুক্ষেতের সমারোহ। সারি সারি আলুর ক্ষেত দেখে মনে হবে কৃষকের মুখে হাসি। কিন্তু বাস্তবে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে হতাশা ও দুশ্চিন্তা। রোপণের পর অতি বৃষ্টি না হওয়ায় এবং বড় কোনো রোগবালাই বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
কোথাও কোথাও আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। আবার অনেক জমিতে উত্তোলনের অপেক্ষা চলছে। তবে ভালো ফলনের পরও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার আলুচাষিরা। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে সিরাজদিখানে আলুর উৎপাদন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।
কিন্তু বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় সেই সাফল্যই এখন কৃষকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকায়, কোথাও কোথাও আরও কম দামে। অথচ কৃষকদের হিসাবে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রম মিলিয়ে কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৫ থেকে ১৮ টাকা। ফলে প্রতিটি কেজিতেই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। সিরাজদিখান উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ঋণ করে আলু চাষ করছি।
ভেবেছিলাম ভালো ফলন হলে দেনা শোধ হবে। কিন্তু এখন আলু বিক্রি করেও খরচ উঠছে না। আলু মাঠে রাখলে নষ্ট হবে, তুলে আনলে লোকসান কোন পথে যাব বুঝতেছি না। আরেক কৃষক বলেন, কোল্ড স্টোরেজে রাখার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। বাধ্য হয়েই কম দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ খুচরা বাজারে এই আলুই তুলনামূলক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, এলাকায় পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ নেই। যেগুলো আছে সেগুলোর ভাড়াও বেশি। ফলে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীরা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি হস্তক্ষেপ, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আলু ক্রয়, কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিআলো/আমিনা



