হোমনা-তিতাসে নির্বাচনী উত্তাপ, এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী
কুমিল্লা প্রতিনিধি: হোমনা-তিতাস নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-২ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সারা দেশে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার দেখা গেলেও কুমিল্লা-২ আসনে ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সচিব ও প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন খানের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন সৃষ্টি হয়েছে।
হোমনা ও তিতাস উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লা-২ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে এবারের নির্বাচনে দলটির প্রার্থী মনোনয়নে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ। তাদের মতে, বহিরাগত ও বিতর্কিত প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপির ভেতরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছে, দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং সঠিক জরিপ ও তথ্য বিশ্লেষণ না করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় ও জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত সাবেক সচিব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন খানের পক্ষে ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। প্রচারণার প্রথম দিন হোমনার শ্রীমদ্দী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন খান ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে নিলুখী এলাকায় প্রচারণার মাইক ও সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৮ জানুয়ারি হোমনা থানায় ২১৫ জন বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-১২, তারিখ: ২৮/০১/২০২৬)।
এর মধ্যেও বিরামহীনভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সব প্রার্থী ও সমর্থকরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন খানের প্রতিটি পথসভাই জনসভায় রূপ নিচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে তার কর্মী-সমর্থকের সংখ্যা। তালা প্রতীকের পক্ষে স্পষ্ট গণজোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল মতিন খান দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে যুক্ত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস, সাবেক সচিব এবং জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ আমলা হিসেবে তিনি এলাকায় সুপরিচিত। মরহুম এম কে আনোয়ার ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে কাজ করে হোমনা-তিতাসের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। কর্মসংস্থান, বদলি, পোস্টিংসহ নানা সামাজিক সমস্যার সমাধানে তার ভূমিকা এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত।
নিজের বক্তব্যে আব্দুল মতিন খান বলেছেন, তিনি এলাকার অভিভাবক নন, একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে চান। সাবেক দুই মন্ত্রীর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করাই তাঁর লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহিরাগত প্রার্থী ও দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ এই আসনে ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। শান্তিপ্রিয় ভোটাররা সহিংসতার রাজনীতির বিপরীতে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব খুঁজছেন। আসন্ন নির্বাচনে তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান স্থানীয়রা।
বিআলো/শিলি



