এবার সবার নজর স্পিকার পদে, চাপে মোদির বিজেপি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের লোকসভার অলিখিত নিয়ম, ‘জিসকা স্পিকার, উসকি সরকার’ (যে দলের স্পিকার, কেন্দ্রে সে দল ক্ষমতায়)। টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করতে মোদিকে নির্ভর করতে হয়েছে শরিক দলের ওপর। জোট সরকারের মোদি ৩.০-এর ক্ষেত্রে কি সেই নিয়ম বজায় থাকবে?
জটিল পরিস্থিতি দেখে এমন প্রশ্ন অনেকের। ৩.০ মন্ত্রিসভা বণ্টনে মোদির ‘বিগ ৪’ অর্থাৎ অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, নির্মলা সীতারমণ ও এস জয়শঙ্কর তো বটেই অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ও থেকেছে বিজেপির কাছে। স্পিকারও কি বিজেপিরই হবেন? নাকি শরিকের চাপে বিজেপিকে বাছাই করতে হবে অন্য কাউকে?
এবার বিনা যুদ্ধে বিজেপির হাতে স্পিকার পদ তুলে দেয়ার ঘোরতর বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। ভারতে লোকসভার স্পিকার পদ সহজেই বিজেপি পেয়ে যাক তা কোনওভাবেই হতে দিতে চাইছে না ‘ইন্ডিয়া’ জোট। সূত্রের খবর, ঠিক যেভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যশবন্ত সিনহাকে প্রার্থী করা হয়েছিল এবারও বর্ষীয়ান কাউকে প্রার্থী করতে চাইছে জোট।
এনডিএ-র শরিকদল টিডিপি বা জেডিইউয়ের কাউকে স্পিকার করা হলে তাকেই ‘ইন্ডিয়া’জোটের পক্ষ থেকে সমর্থন করা হবে বলেই একপ্রকার ঠিক হয়েছে। তবে, বিজেপি যদি শরিকদের হাতে না ছেড়ে নিজেদের দলের কাউকে স্পিকার পদের জন্য বেছে নেয় তাহলে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকেও পালটা প্রার্থী দেয়া হতে পারে। একইসঙ্গে বিগত দু-বার লোকসভায় সহ- স্পিকার পদটি খালি পড়ে থাকলেও এবার যাতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে থাকা দলগুলোর কোনও এমপিকে সেই পদে বসানো হয় তা নিয়েও সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে বিরোধীরা।
স্পিকার পদ নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’জোটের সমস্ত দলের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছে। ২৪ জুন সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠকও করতে পারে।
সূত্রের খবর, ডিএমকের বর্ষীয়ান নেতা, সাতবারের এমপি ৮৩ বছরের টি আর বালুকে জোটের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার পদের জন্য প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। স্পিকার পদ নিয়ে টিডিপির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে ইন্ডিয়া জোট। সেক্ষেত্রে বালুর দক্ষিণি পরিচয়কে কাজে লাগিয়েই সহানুভূতি আদায় করার চেষ্টা করা হতে পারে।
আবার টিডিপি চাইছে স্পিকার করা হোক তাদের দল থেকেই। অতীতে তাদের দলের জিএমসি বালাযোগী লোকসভার প্রথম দলিত স্পিকার হিসাবে পদ সামলেছেন। এবার বালাযোগীর ছেলে হরিশ মাথুর বালাযোগীকে স্পিকার করা হোক বলেই চাইছে তারা। তাতে নিজেদের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে দলিত সম্প্রদায়ের ভোটের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে বলেই রাজনৈতিক হিসাব কষছে চন্দ্রবাবুর দল।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ২৪ তারিখ থেকে লোকসভার বিশেষ অধিবেশনে বসতে চলেছে। যা চলবে ৩ জুলাই পর্যন্ত। প্রথম দিন লোকসভার নবনির্বাচিত সাংসদদের শপথ গ্রহণপর্ব মিটে গেলেই লোকসভার স্পিকার পদের নির্বাচন হবে। তারপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং তার উপর আলোচনা হবে। রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হবে ২৭ তারিখ থেকে। শেষ হবে একইসঙ্গে। শপথ গ্রহণপর্বে লোকসভা পরিচালনা করবেন প্রোটেম স্পিকারই। লোকসভার সবথেকে বেশিবারের সাংসদকেই প্রোটেম স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার প্রথা রয়েছে।
বিআলো/শিলি